পাথারকান্দি (অসম) : এক এক করে নয়টি স্কুল গড়ে নজির গড়েছেন জনৈক রিকশাচালক আহমেদ আলি। সমাজে শিক্ষার বিচ্ছুরণ ঘটাতে এই সব স্কুল তিনি গড়েছেন নিজের গৃহ এলাকা মধুরবন্দ গ্রামে। মধুরবন্দের বাসিন্দা আহমেদ আলির এই অদম্য উৎসাহের খবর পান পাথারকান্দির বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল।
হতদরিদ্র এক রিকশাচালকের এই উদ্যম দেখে আপ্লুত বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল ১১ লক্ষ টাকার অনুদান দিয়ে আহমেদ আলিকে সংবর্ধনা জানিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল আহমেদ আলি হাইস্কুলে উপস্থিত হয়ে স্কুলের উন্নতিকল্পে এমএসডিপি তহবিল থেকে এই অনুদান স্কুল কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেন। অনুদান প্রদান করে বিধায়ক বলেন, বর্তমান যুগে আহমেদ আলির মতো বিরল ব্যক্তিত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন। তাঁকে তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে আমৃত্যু মনে রাখবেন এবং তাঁর পাশে থাকবেন। তাঁর বাকি স্কুলগুলো যাতে শীঘ্রই প্রাদেশীকৃত হয় সে ব্যাপারে দিশপুরে আন্তরিকতার সঙ্গে দরবার করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল।
দুই পত্নী এবং সাত সন্তানের জনক তথা নয়টি স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা রিকশাচালক আহমেদ আলি তাঁর তিক্ত অভিজ্ঞতার বর্ণনা করেছেন আজ। বলেন, বাল্যকাল থেকে দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে বড় হয়েছেন। লেখাপড়া করতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে রিকশা চালাতে নেমে পড়েন। গত ১৮ বছর ধরে রিকশা তাঁর পরমবন্ধু। রিকশাই তাঁর পেটের খিদে নিবারণ করছে। খুব কাছ থেকে তিনি দেখেছেন নিরক্ষরতার নির্মম পরিহাস। দেখেছেন শিক্ষার অভাবে তিলে তিলে যুবসমাজ ডুবছে। তাঁর যখন পড়াশুনা করার কথা, সে সময়ে বৃহত্তর এলাকায় কোনও স্কুল ছিল না। তাই নিজের এবং অন্যের সন্তানদের মধ্যে শিক্ষার আলো ফুটাতে ১৯৭৮ সালে মধুরবন্দ গ্রামে সর্বপ্রথম একটি এলপি স্কুল স্থাপন করেন আহমেদ আলি। এর পর ক্রমশ গড়ে তোলেন আরও দুটি এলপি এবং পাঁচটি এমই ও একটি হাইস্কুল।
আহমেদ জানান, তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী হিতেশ্বর শইকিয়া ও প্রফুল্লকুমার মহন্তের আমলে তিনটি এলপি স্কুল প্রাদেশীকৃত হয়েছে। বাকিগুলো প্রাদেশীকরণের অপেক্ষায়। আলী জানান, গত ১৮ বছর ধরে রিকশা চালাচ্ছেন। মনে কোনও আক্ষেপ নেই এখনও। তার কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। বলেন, নিজের হাতে গড়া স্কুলগুলি থেকে পাঠ নিয়ে বহু যুবক-যুবতী নিজের পায়ে দাঁড়াচ্ছে, এটাই তাঁর তৃপ্তি। অনেকে সরকারি চাকরি করছে, এটা গর্বের বিষয় বই-কি। তবে নয়টি স্কুলের মধ্যে আটটি স্কুল বিভিন্ন নামে স্থাপন করলেও স্থানীয় মানুষজনের ইচ্ছানুসারে একমাত্র হাইস্কুলেথর নামকরণ করেছেন নিজের নামে, সেটা ‘আহমেদ আলি হাইস্কুল’। ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে গেছেন, একটি কলেজ স্থাপন করার ইচ্ছা। তা হয়ে গেলে তাঁর হাতে গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হবে দশ। এর পর এই সংসার ছেড়ে গেলে কোনও আক্ষেপ থাকবে না বলে জানিয়েছেন প্রবীণ আহমেদ আলি। উল্লেখ্য, আহমেদ আলি তাঁর উদ্যম কেবল স্কুল স্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি। অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠা করেছেন হাটবাজার, মাদ্রাসা এবং মসজিদ।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন