২০১৬-১৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি - Aaj Bikel
২০১৬-১৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি

২০১৬-১৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতি

Share This

‘‘এই বাজেটের জন্য আমাদের অর্থমন্ত্রী শ্রদ্ধেয় অরুণ জেটলিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। গ্রাম, গরিব, কৃষক, মহিলা এবং যুবকদের এই বাজেটে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এদের জীবনে উৎকর্ষসাধনের লক্ষ্যে এই বাজেটে বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।

এই বাজেট দারিদ্র্য দূরীকরণে সময় নির্দিষ্ট এবং ব্যাপক রূপরেখা এঁকেছে। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার উদ্দেশ্যে এই বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তেমনই, একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হল ‘প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিচাঁই যোজনা’ বাবদ বিনিয়োগে অভূতপূর্ব বৃদ্ধি। দেশের প্রতিটি শস্যক্ষেত্রে সেচের জল পৌঁছে দিতে এটি একটি বড় প্রচেষ্টা।

গ্রামোন্নয়নে বিদ্যুৎ এবং সড়কের গুরুত্ব আমরা সকলেই জানি। এই বাজেটে ২০১৯-এর মধ্যে দেশের প্রতিটি গ্রামকে সড়ক যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত করার সঙ্কল্প প্রকাশিত হয়েছে। এই বাবদ অদ্যাবধি বৃহত্তম বিনিয়োগের পাশাপাশি ২০১৮-র মধ্যে প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার স্পষ্ট রূপরেখাও অঙ্কিত হয়েছে।

এর মাধ্যমে দেশের গ্রামীণ অর্থ ব্যবস্থা নতুন জ্বালানি পাবে, গতিশীল হবে, সাধারণ মানুষের জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে। আমরা সবাই জানি, মানুষ যত দরিদ্রই হোন না কেন, সকলেই একটা নিজস্ব বাড়ির স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু সরকারের সাহায্য ছাড়া সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষ, হতদরিদ্র মানুষের এই স্বপ্ন সফল হওয়া সম্ভব নয়। সেজন্য এই বাজেটে প্রত্যেক গৃহহীনের মাথার ওপর ছাদ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তাছাড়া, যাঁরা ভাড়া বাড়িতে থাকেন, তাদের বাড়ি ভাড়ার ওপরও আয়কর প্রদানের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হয়েছে। বছরে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যাঁরা আয় করেন, তাদের আয়কর ছাড়ের সীমা বাড়ানো হয়েছে।

আমাদের দেশে দারিদ্র্য নিয়ে অনেক রাজনীতি হয়েছে। এক গরিব মা তাঁর সন্তানদের জন্য রান্না করতে যে উনুন জ্বালান, তার ধোঁয়া থেকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি হয়। প্রায় ৪০০টি সিগারেটের ধোঁয়া থেকে যতটা ক্ষতি হয়, উনুনের ধোঁয়া থেকে প্রতিদিন তাদের শরীরে ততটাই ক্ষতি হয়। এ ধরনের হতদরিদ্র পরিবার পিছু একটি করে রান্নার গ্যাস কানেকশন দেওয়ার বরাদ্দ এই বাজেটে করা হয়েছে। ফলে, প্রায় ৫ কোটি হতদরিদ্র পরিবার উপকৃত হবে। পাশাপাশি ৫ কোটি পরিবারের জ্বালানো কাঠকয়লা প্রতিদিন কম পুড়লে সেই অনুপাতে পরিবেশ দূষণ কমবে। স্বাস্থ্যখাতে খরচও সেই অনুপাতে হ্রাস পাবে।

কখনও কখনও বাড়ির কেউ জটিল কোনও রোগে আক্রান্ত হলে, তাঁর চিকিৎসার জন্য মধ্যবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে। সেজন্য প্রবীণ নাগরিকদের স্বার্থে বেশ কিছু পরিকল্পনা এই বাজেটে রয়েছে। বিশেষ করে, যাঁরা আমাদের দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন সেই সৈনিকদের পাশে দাঁড়াতে তাঁরা যাতে অবসরগ্রহণের পর ‘এক পদ এক পেনশন’ পান তা এই বাজেটে সুনিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা নির্মাণ ক্ষেত্রকে সক্ষম এবং গতিশীল করে তুলতে এর আধুনিকীকরণে উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

এই বাজেটে দেশের পরিকাঠামো নির্মাণে প্রায় ২ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই পরিকাঠামো উন্নয়নের ফলে সীমান্ত অঞ্চলে মোতায়েন দেশের অসংখ্য সৈনিক উপকৃত হবেন। ভারতের যুবশক্তি এগিয়ে চলেছে। তাদের কর্মসংস্থানের পরিসর বৃদ্ধি করতে দুটি নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে – ‘ফরম্যালাইজিং দ্য ইনফরমাল’ এবং বেকারদের কর্মসংস্থান। পাশাপাশি, ‘স্টার্ট আপ’কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ‘স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া, স্ট্যান্ড আপ ইন্ডিয়া’ বাবদ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তাদের জন্য কর ছাড়ের ব্যবস্থা, চলিত ও আদিবাসী স্ব-উদ্যোগীদের অগ্রাধিকারের মাধ্যমে আমরা নবীন প্রজন্মকে চাকুরিপ্রার্থী থেকে চাকুরিদাতা করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি। সেই স্বপ্নকে সফল করতে একটি বিশেষ ‘আন্ত্রেপ্রেনিউরশিপ হাব’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেশের যুবশক্তি যাতে সকল আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে প্রতিস্পর্ধী হতে পারেন সেরকম শিক্ষাপ্রদান ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেজন্যে প্রয়োজনে পুরনো আইন শিথিল করতে হবে। নিদেনপক্ষে দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে আমরা উচ্চশিক্ষায় উৎকর্ষে গুরুত্ব দিয়েছি। প্রতিযোগিতার পরিবেশ গড়ে তুলে আমরা দেশকে পরিবর্তনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

কিন্তু পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষারও সমান গুরুত্ব রয়েছে। এ যাবৎকাল ধরে সকল সরকারই সময়ের চাহিদা অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারকে গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু এখন সময় এসেছে প্রাথমিক শিক্ষায় গুণগত মান বৃদ্ধির। দূরদূরান্তের গ্রামীণ বালক-বালিকাদের শিক্ষায়ও উৎকর্ষসাধনের প্রয়োজন এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আমাদের সরকার দেশের সাধারণ মানুষের ওপর ভরসা রাখার পক্ষে। আয়কর বিভাগের কর্মচারীদের অনুরোধ তাঁরা যাতে সাধারণ মানুষকে বিশ্বাস করেন, সম্মান জানান। আয়করের জটিল প্রক্রিয়া থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করার প্রচেষ্টা আমরা এই বাজেটে করেছি। ব্যবসায়ী এবং পেশাদারদেরও আমরা জটিলতা থেকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সাধারণ আয়ের নাগরিকদের মোট আয়ের ওপর ‘প্রিসাম্পটিভ ট্যাক্স’ জমা দিলেই এই প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটিকেই এই বাজেটে অত্যন্ত সরল করা হয়েছে।

আমি আর একবার শ্রীযুক্ত অরুণ জেটলিকে কৃতজ্ঞতা জানাই, আর দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলি যে এই বাজেট আপনাদের স্বপ্নের কাছাকাছি। আপনাদের স্বপ্নকে সফল করতে সরকার সকল শক্তি ও সঙ্কল্প নিয়ে এই পরিকল্পনাগুলি তৈরি করেছে।’’

কোন মন্তব্য নেই: