কলকাতা : নট আউট ৭৫ | অন্তত আগামী বইমেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্কোরবোর্ডে এ রকম লেখা হতেই পারে। মুখ্যমন্ত্রীর লেখার মান নিয়ে প্রশ্ন, তর্ক— যতই থাকুক, নয় নয় করে ৭৫টি বই লিখে ফেললেন তিনি। এখন পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে তাঁর ৭০টি বই। ৪২তম আন্তর্জাতিক বইমেলায় আরও পাঁচটি প্রকাশ পাবে। হবে ৭৫।
দে’জ পাবলিশিংয়ের সুধাংশু দে-র হিসেবটা এ রকমই। তাঁর কথায়, “এবার তাঁর যে পাঁচটি বই প্রকাশিত হবে, তার চারটির পান্ডুলিপি এসে গিয়েছে। বাকিটাও পেয়ে যাব শীঘ্রই।” এবারে প্রকাশ পাবে তাঁর ‘শিশুবেলা’ (বাচ্চাদের লিমেরিক), ‘রুদ্রাক্ষ’ (বড়দের কবিতা), ‘আমার নব প্রজন্ম’ (যুব সম্প্রদায়ের জন্য)।
১৯৯৫ সালে ‘উপলব্ধি’-র মাধ্যমে বই প্রকাশ শুরু মমতার। প্রকাশকদের হিসাবে, গত দু’দশকে এটা তাঁর অন্যতম বেস্ট সেলার। ২০১১ সালে বাংলার লাল দূর্গ ভেঙে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেই তাঁর বইয়ের বিক্রি ১০ লক্ষ টাকা অতিক্রম করে যায়।
জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর বই বিক্রি। তৃণমূল থেকে কীভাবে উঠে এলেন ক্ষমতার শীর্ষে, তা নিয়ে তাঁর ‘পরিবর্তন’ হয়ে উঠেছিল রাতারাতি হিট। দে’জ পাবলিশিংয়ের কর্ণধারের মতে, “২০১১-১২ সালে তাঁর দু‘একটি বই এ দিক থেকে পাল্লা দিয়েছে শংকর এবং বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বইয়ের কাটতিকে।”
নন্দীগ্রাম থেকে সিঙ্গুর— মমতার বই ভোটব্যাঙ্ক হিসাবে কাজ করেছে। একদিকে আর্থসামাজিক বিষয়, অন্যদিকে লিখেছেন ছোটদের তিনটি বই। তাঁর প্রকাশিতব্য ‘শিশুবেলা’য় থাকবে ৪০টি লিমেরিক।
রাজনৈতিক নেতাদের কলম ধরার বিষয়টি এ দেশে মোটেই নতুন নয়। জওহরলাল নেহরুর আত্মজীবনী (‘এন অটোবায়োগ্রাফি’) এবং ‘ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’, দেশের অন্যতম সেরা বেস্ট সেলার।
মহাত্মা গান্ধীর ‘মাই এক্সপেরিমেন্ট উইথ ট্রুথ’ থেকে সুভাষচন্দ্র বসুর ‘দি ইন্ডিয়ান স্ট্রাগল ১৯২০-১৯৩৪’, মৌলনা আবুল কালাম আজাদের ‘ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডম’ থেকে, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ‘আইডিয়াস অফ আ ন্যাশন’ —অনেকের লেখা বই সাড়া জাগিয়েছে বাজারে। কিন্তু প্রকাশক মহলের একটা বড় অংশ নিশ্চিত, বাংলা ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বইয়ের মত আর কোনও নেতার বই এই বাংলায় সাড়া জাগাতে পারেননি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন