গুয়াহাটি : যেখানে বিদ্যুৎ সেখানেই বিকাশ। কেন্দ্ৰীয় সরকার দেশের বিভিন্ন প্ৰান্তের সঙ্গে সংগতি রেখে অসমের বরাক ও ব্ৰহ্মপুত্ৰ উপত্যকা এবং পাহাড়, সমতল-সহ অত্যন্ত দুৰ্গম অঞ্চলে বিদ্যুতের আলো পৌঁছতে আজস মঙ্গলবার অসমে ‘সৌভাগ্য’ প্রকল্পের শুভারম্ভ করেছেন কেন্দ্ৰীয় বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিমন্ত্ৰী আরকে সিং এবং মুখ্যমন্ত্ৰী সর্বানন্দ সনোয়াল।
গুয়াহাটির সোনারাম ময়দানে অনুষ্ঠিত প্রকল্পের শুভারম্ভ অনুষ্ঠানে কেন্দ্ৰীয় মন্ত্ৰী আরকে সিং বলেন, বিগত দিনের সরকারের আমলে দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে যে জটিলতা ছিল আজ সেই পরিস্থিতি নেই। প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্ৰীয় সরকার এ সম্পর্কীয় যাবতীয় জটিলতা দূর করে দেশের প্রত্যন্ত ও দুৰ্গম অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌছানোর কাজ শুরু করেছেন। কেবল তা-ই নয়, প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্ৰতিটি ঘরে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা প্ৰদানেরও সংকল্প গ্ৰহণ করে এগিয়ে চলেছে কেন্দ্র। তাছাড়া যে সকল দুর্গম গ্রামে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা যাবে না, সেই সকল অঞ্চলে সৌরশক্তির মাধ্যমে হলেও বিদ্যুৎ পৌঁছাবে সরকার। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, তুলনামূলকভাবে অৰ্থনৈতিক দুর্বল পরিবারকে বিদ্যুতের সুবিধা দিতে কিছু মাশুল নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ ৫০০ টাকা করে সংগ্রহ করা হবে। তবে এই মাশুল ৫০ টাকা করে ১০টি কিস্তিতে বিদ্যুতের বিলের মাধ্যমে প্রতি মাসে নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এককথায় সরকার এখন বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন প্ৰতিটি ঘরে আলোর ব্যবস্থা করার সংকল্প গ্রহণ করেছে।
কেন্দ্ৰীয় মন্ত্ৰী জানান, দেশে সম্প্ৰতি তিন লক্ষ ৩২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে এবং এক্ষেত্রে অসমেরও যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এজন্য তিনি মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়ালকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কেন্দ্ৰীয় বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিমন্ত্ৰী আরকে সিং অসমে বিদ্যুৎ ক্ষেত্রের কাজকর্মের প্ৰশংসা করে দেশের অন্য রাজ্যকে অসমের আদলে কাজ করার পরামর্শ দেন।
‘সৌভাগ্য’ প্রকল্পের শুভারম্ভ অনুষ্ঠানে অসমের মুখ্যমন্ত্ৰী সৰ্বানন্দ সনোয়াল বলেন, প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদী দেশ থেকে দারিদ্ৰ্য দূরীকরণের জন্য পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ে আদৰ্শকে অবলম্বন করে বিভিন্ন প্রকল্প গ্ৰহণ করেছেন। তাই-তো ‘সৌভাগ্য’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দুৰ্গম অঞ্চলের বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করার সংকল্প নিয়েছে কেন্দ্ৰীয় সরকার। অসমে এই প্রকল্পের যাতে সফল রূপায়ণ হয় সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের প্ৰত্যেক আধিকারিক-কৰ্মচারীর পাশাপাশি গ্রামপ্রধান এবং গ্রামপঞ্চায়েতের পদাধিকারীদের নিষ্ঠা ও সততার মাধ্যমে কাজ করার সংকল্প নিতে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্ৰী।
বিদ্যুৎ দফতরের উপস্থিত সকল আধিকারিক-কৰ্মচারীদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই বিভাগটি রাজ্যের অন্যতম শক্তিশালী বিভাগ। কেননা এই এক দফতরে ১৪ হাজার কৰ্মচারী রয়েছেন। এই ১৪ হাজার কৰ্মচারী যদি প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের জন্য অসমকে ২৪ ঘণ্টা আলোকিত রাখার সংকল্প নেন, তা হলে তা অবশ্যই সফল হবে। কেউ তাতে বাধা দিতে পারেবে না।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে গ্ৰামাঞ্চলের ২৮.১০ লক্ষ এবং নগরাঞ্চলের ১.৫৮ লক্ষ পরিবারকে যুক্ত করা হবে। মোট ১৬,৩২০ কোটি টাকা খরচ করা হবে প্রকল্পের সম্পূৰ্ণ বাস্তবায়নে। এই প্রকল্পের বলে সুবিধাভোগীদের বিদ্যুৎ সংযোগ মোবাইল অ্যাপ-এর মাধ্যমে দেওয়ারও ব্যবস্থা হাতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাপও আজ শুভারম্ভ করেছেন মুখ্যমন্ত্ৰী। আজকের অনুষ্ঠানে পশ্চিম গুয়াহাটির বিধায়ক রমেন্দ্ৰনারায়ণ কলিতা, রঙিয়ার বিধায়ক ভবেশ কলিতা, হাজোর বিধায়ক সুমন হরিপ্ৰিয়া, বিধায়ক সত্যব্ৰত কলিতা, এপিডিসিএল-এর প্ৰধানসচিব জিষ্ণু বরুয়া, এপিডিসিএল-এর সঞ্চালকপ্ৰধান পুরু গুপ্তা-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের বিভিন্ন প্ৰান্তের গ্রামপ্রধান এবং গ্রামপঞ্চায়েতের পদাধিকীরারাও ছিলেন আজকের অনুষ্ঠানে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন