বাঘের গর্জনে কাঁপছে বীরভূমের মল্লারপুরের গনপুর - Aaj Bikel
বাঘের গর্জনে কাঁপছে বীরভূমের মল্লারপুরের গনপুর

বাঘের গর্জনে কাঁপছে বীরভূমের মল্লারপুরের গনপুর

Share This


মল্লারপুর : বাঘের গর্জনে কাঁপছে বীরভূমের মল্লারপুরের গনপুর এলাকার একাধিক গ্রাম। রাত হলেই গ্রামবাসীরা আগুন জ্বালিয়ে পাহাড়া দিতে বসেছেন বাঘের ভয়ে। একদা বীরভূমের এই গনপুর জঙ্গল বিখ্যাত ছিল বাঘের জন্য। রাত হলেই ওই এলাকা দিয়ে মানুষের যাতায়াত তো বন্ধ হতই। দিনের বেলাতেও কেউ বন্ধ গাড়ি ছাড়া ওই এলাকা দিয়ে পেড়িয়ে যাওয়ার সাহস পেত না। চিতা বাঘ থেকে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কোনও কিছুই বাদ থাকতো না এই জঙ্গলের ভিতরে। থাকত হাতি, শেয়াল, বিষধর সাপও। বর্তমানে ওই এলাকায় ধীরে ধীরে জন বসতি গড়ে ওঠার কারনে ধীরে ধীরে নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে সেই বন্য প্রাণীরা। কমেছে ঘন জঙ্গলের সেই ঘনত্ব। কিন্তু বর্তমানে গত প্রায় চার দশক ধরে ওই এলাকায় কিছু শেয়াল, সাপ ইত্যাদি দেখা গেলেও জঙ্গলের ভেতরে ভয়ানক জন্তু জানোয়ার আর বিশেষ দেখা যায় না।

 তবে গনপুর জঙ্গলের সঙ্গে ঝাড়খন্ডের জঙ্গলের বেশ কিছু যোগাযোগ থাকায় ঝাড়খন্ড থেকে মাঝে মাঝেই ওই এলাকায় জঙ্গলের ভেতরে জঙ্গলি হাতি দেখা যায় এখনও। যাদের বন দফতরের উদ্যোগে তাড়িয়ে ফের গভীর জঙ্গলের দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে বাঘ ভাল্লুকের দেখা আর সেখানে মেলে না। কিন্তু গত প্রায় চার দিন আগে মল্লারপুর এলাকার মহুরাপুর গ্রাম এলাকায় রাতের অন্ধকারে বাঘের গর্জন শুনতে পান দুই গ্রামবাসী। প্রথমে তারা সেই গর্জন শুনে কিছুটা থমকে যান । খুব নিস্তব্ধতার মধ্যে তারা আবার সেই গর্জন শোনার চেষ্টা করেন দীর্ঘক্ষণ। ফের সেই ডাক.. এবার আর ভুল নয়। বাঘেরই গর্জন ছিল আগেরটাও। আওয়াজ শুনে বুঝতে পারেন খুব একটা দূরে নেই সেই বাঘ মামা। কাছেই আছেন। এরপর আর কিছু বোঝার দরকার নেই। এক দৌড়ে সেই দুই গ্রামবাসী গ্রামের বাকি লোকেদের গিয়ে খবর দেন। তারপর গোটা গ্রাম মশাল জ্বালিয়ে বেড়িয়ে পড়েন বাঘের খোঁজে। কিন্তু সেই রাতে বাঘের দেখা না মিললেও আতঙ্কে ঘুম উড়ে যায়। এরপর সকাল হতেই গ্রামের আনাচে কানাচে একাধিক বাঘের পায়ের থাবা বা আচড়ের চিহ্ন দেখতে পান। ব্যাস। এই সব দেখার সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় বন দফতরের কাছে। খবর পেয়ে সেইদিনই ছুটে আসেন বন দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা। তারাও এক প্রকার হতবাক হয়ে যান এতো দিন পর ওই জঙ্গলে বাঘের নিশান দেখে। কিন্তু তার নিশ্চিত হতে পারছিলেন না ওই সব চিহ্ন বাঘেরই কিনা। তারপর থেকে শুরু হল রাত জাগার পালা।

অন্যদিকে এই মল্লারপুর এলাকার গনপুর জঙ্গলের ওপর দিয়েই চলে গেছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক। যার দু ধার দিয়ে এখনও রয়েছে সেই গন গভীর গনপুর জঙ্গল। একবার যেখানে বাঘের হদিস পাওয়া গেছে সেখানে ওই জঙ্গলের কোনও এলাকায় তারা লুকিয়ে আছে সেই নিয়ে চিন্তায় পরেছেন সকলে। তবে বাঘ আছে এটা তিন দিন পরে এখন অনেকটা পরিষ্কার হয়েছে। বন দফতরের সূত্রে জানা গেছে, তাদের ধারনা যদি সেটা বাঘের পায়ের চিহ্ন হয় তাহলে একটা আধটা নয়। প্রায় চার থেকে পাঁচটি বাঘ সেখানে থাকতে পারে। এখন তারা চিন্তায় পরেছেন কিভাবে এলো এই বাঘ গুলি? জেলা পুলিশ প্রশাসনের তরফে ঘিরে ফেলা হয়েছে জাতীয় সড়ক, মহুরাপুর সহ এলাকার একাধিক গ্রাম। এলাকার লোকজনদের সতর্ক করা হয়েছে। অনেক লোকজনকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। জেলা বন আধিকারিক জানিয়েছেন, “এখনও বাঘকে চোখে দেখা যায় নি। তবে গভীর জঙ্গলের ভেতরে খোঁজ চালানো হচ্ছে। আশঙ্কা যাই হোক। বিষয়টিকে হাল্কা ভাবে নেওয়া হচ্ছে না।”

কোন মন্তব্য নেই: