'যুদ্ধোপরাধীর তকমা দিয়ে নেতাজিকে প্রকাশ্যে অাসতে দেওয়া হয়নি' - Aaj Bikel
'যুদ্ধোপরাধীর তকমা দিয়ে নেতাজিকে প্রকাশ্যে অাসতে দেওয়া হয়নি'

'যুদ্ধোপরাধীর তকমা দিয়ে নেতাজিকে প্রকাশ্যে অাসতে দেওয়া হয়নি'

Share This


কলকাতা : নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর অন্তর্ধানকে কেন্দ্র করে অাপামোর ভারতবাসীই নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রশ্ন-বিতর্ক কম নয়।একপক্ষ নেতাজির বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে প্রতিস্থাপন করার লক্ষ্যে যখন দলিল দস্তাবেজ পেশ করছে, তেমনিই অন্যপক্ষের দাবি, নেতাজির মৃত্যু কোনও বিমান দুর্ঘটনায় হয়নি, বরং তিনি দেশ স্বাধীনের পরও জীবিত ছিলেন এবং ‘গুমনামী বাবা’ (ভগবান জী) নামে উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের রামভবন অাশ্রমে ছিলেন। তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠে, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর নাম যখন দেশের ‘জাতীয় বীর’ তথা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে, তবে দেশ স্বাধীনেরও পর কেন তিনি প্রকাশ্যে এলেন না।

এই সংবেদনশীল প্রশ্নের জবাবে হিন্দুস্থান সমাচারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নেতাজি গবেষক-লেখক ডঃ জয়ন্ত চৌধুরি বলেন, দেশ স্বাধীনের পর রাষ্ট্রসংঘের চোখে নেতাজি ছিলেন একজন যুদ্ধাপরাধী। যদিও তৎকালীন ভারত সরকার তাদের অবস্থানগত রাজনৈতিক জটিলতার কারণে এই সত্যটি কখনও প্রকাশ্যে বলতে পারেনি। বিট্রিশের একান্ত অনুগত তথা দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু তাঁকে একজন যুদ্ধাপরাধী বলেই চিহ্নিত করে গেছেন। নেহেরু থেকে মনমোহন সিং পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রীরা নেতাজিকে অাইনত ‘মৃত’ প্রমাণের মরিয়া চেষ্টার পাশাপাশি এমনও ভাবনা ছিল যে, নেতাজি সুভাষচন্দ্রকে ফাঁসি বা কোর্টমার্শালের সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা করা কিংবা চাইলে তিনি অাত্মগোপন করেও থাকতে পারবেন। এর পেছনে একটাই বড় কারণ, নেতাজি সুভাষচন্দ্রকে চিরদিনের জন্য হারিয়ে দিলে তাদের পথের কাঁটাও দূর হয়ে যাবে অার গল্পের অাড়ালে হারিয়ে যাবে অাজাদ হিন্দের রক্তাক্ত লড়াইয়ের ইতিহাস।

এই তথ্যের বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ডঃ চৌধুরি সাক্ষাৎকারে অারও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও শাস্তির জন্য অান্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। বহু বিখ্যাত ব্যক্তির প্রতিও বিচারের নামে চলে প্রহসন। ফাঁসি থেকে যাবজ্জীবন কারাবাসের অাদেশ কোথাও কার্যকরকরা সম্ভব হলেও, একাধিক ব্যক্তির নাম নিখোঁজ বা অাত্মগোপনের তালিকায় উঠে অাসে। এই সামরিক ট্রাইব্যুনালের অন্যতম বিচারক ছিলেন ডঃ রাধাবিনোদ পাল। তিনি নেতাজির নেতৃত্বাধীন অাজাদ হিন্দ সরকার ও অাজাদ হিন্দ ফৌজের বিট্রিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে স্বাধীন বারত গড়ার লড়াইকে সমর্থন করেছিলেন। এমনকি অান্তর্জাতিক নথি দেখে তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে তাইহোকুতে সুভাষচন্দ্র বসুর কোন বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি এবং তাই ছাইভস্মতত্ত্বকে কোনও মান্যতা দিতে রাজি ছিলেননা। এজন্য জওহরলাল নেহেরুর চক্ষুশূল ছিলেন তিনি। পরবর্তীতে জওহরলাল নেহেরু তৎকালীন স্টোনোগ্রাফার শ্যামলাল জৈন নেতাজি তদন্তে নিযুক্ত খোসলা কমিশনে

কোন মন্তব্য নেই: