সুভাষের জন্মদিনে জেগে উঠেছে সুভাষগ্রাম - Aaj Bikel
সুভাষের জন্মদিনে জেগে উঠেছে সুভাষগ্রাম

সুভাষের জন্মদিনে জেগে উঠেছে সুভাষগ্রাম

Share This


কোদালিয়া :অনেক আগে স্টেশনের নাম ছিল চাংরিপোতা৷ ঘন জঙ্গলে ভরা এলাকায় বেশ কয়েক একর জমি কিনেছিলেন নেতাজি সুভাষ চন্দ্রের পূর্বপুরুষ গোপীনাথ বসু ৷ হুসেন শাহর কাছ থেকে তিনি পান ‘পুরন্দর খাঁ’ উপাধি ৷ জলা-জঙ্গল কাটিয়ে তৈরী করেন উপনিবেশ ৷ বছর সত্তর আগেও টিমটিম করে আলো জ্বলত স্টেশন এবং গুটিকয় বাড়িতে ৷ বাষ্পের ইঞ্জিন থামত চাঙ্গরিপোতায় ৷ এখন সেই স্টেশন রীতিমত ব্যস্ত৷ চাংরিপোতা থেকে কোদালিয়া হয়ে জনপদের নাম সুভাষগ্রাম ৷

রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ডা: পল্লব দাস ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে জানান, “গোপীনাথ বসু এখানে মালঞ্চ-মাহিনগর এলাকায় একটি বড় পুকুর কাটান ৷ সেটন নাম ছিল ‘খাঁ পুকুর’৷ জনশ্রুতি, শ্রমিকরা বাঁশের চাঙ্গারি করে মাটি তুলত৷ প্রচুর চাঙ্গারি থাকত এক জায়গায়৷ আর প্রচুর কোদাল থাকত আর এক স্থানে৷ তা থেকেই ছোট্ট দুটি গ্রামের নাম হয় চাঙ্গরিপোতা আর কোদালিয়া৷ এখন দুই মিলিয়ে সুভাষগ্রাম৷” 


গোটা সুভাষগ্রামে ছড়িয়ে আছে বসু পরিবারের স্মৃতি৷ সুভাষের নামে রাস্তা তো গোটা দেশ জুড়েই! এখানে আছে তাঁর বাবা জানকিনাথ বসু ছাড়াও ঠাকুর্দা হরনাথ বসুর নামে রাস্তা৷ নেতাজির পারিবারিক বাসভবন দেখতে এসেছেন অনেকে৷ বাড়িটিকে ঘিরে একটি ‘সার্কিট টুরিজম’ করার পরিকল্পনা করছে সরকার৷ বাড়ির ঠাকুর দালান বাদ দিয়ে নেতাজির পৈত্রিক বাড়ির সংস্কার হচ্ছে। 


অভিযোগ উঠেছিল, পরিবারকে না জানিয়েই শুরু হয়েছে সংস্কারের কাজ। মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হন পরিবারের একাংশ। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীকে বেশ কয়েকটি চিঠিও লিখেও একটিরও উত্তর আসেনি। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার হমকি দেন নেতাজির পরিবারের ওই অংশ। নেতাজির নাতি চন্দ্র বসু বলেন, "অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ঠিক হয়নি। সরকারের আলোচনা করা উচিত ছিল। এটা জয়েন্ট অ্যাসেট। কারোর পৈত্রিক সম্পত্তি সরকার এভাবে নিতে পারে না।" এখন নাকি সে সব ঝামেলা মিটেছে৷ রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার চেয়ারম্যানের দাবি তা-ই। 


রাজ্যের হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান শুভাপ্রসন্ন জানান, “বাড়িটির দ্বিতলে যে ঘরে সুভাষচন্দ্র থাকতেন, সেটির অবস্থা খুব খারাপ। বাড়িটিকে হেরিটেজ হিসাবে ঘোষণার জন্য কমিশনের সদস্যরা ওখানে গিয়েছিলেন।” 


দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোদালিয়ায় নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ঠাকুর্দা হরনাথ বসুর তৈরি বাড়িতে ছোটবেলায় বাবা-মার সঙ্গে বহুবার এসেছেন সুভাষচন্দ্র। দুর্গা পুজোতেও এসেছেন ‘দেশের বাড়ি’-তে।

কোন মন্তব্য নেই: