মাস্টারমাইন্ড শঙ্করলালের অব্যর্থ স্ট্রাটেজি, ইস্টবেঙ্গলকে ২-০ গোলে হারাল মোহনবাগান - Aaj Bikel
মাস্টারমাইন্ড শঙ্করলালের অব্যর্থ স্ট্রাটেজি, ইস্টবেঙ্গলকে ২-০ গোলে হারাল মোহনবাগান

মাস্টারমাইন্ড শঙ্করলালের অব্যর্থ স্ট্রাটেজি, ইস্টবেঙ্গলকে ২-০ গোলে হারাল মোহনবাগান

Share This


কলকাতা  : ২০১৭ সালের শেষ ডার্বি জেতার পরে ফের বড় ম্যাচে জয়ের মধুর স্বাদ পেলেন কোচ শঙ্করলালের ছেলেরা। দলের ৯ নম্বর জার্সিধারী ম্যান অফ দা ম্যাচ দিপান্ডা ডিকার করা দুই গোলে চিরবিপক্ষ ইস্টবেঙ্গলকে হারাল মেরিনার্স।

ম্যাচের ২ ও ৩৪ মিনিটে করা লেফট ফুট সাইডভলিতে বিশ্বমানের গোল করেন ডিকা, চোরা গতি, বুদ্ধিদীপ্ত পাসিং রান , ক্রমাগত ওয়াল পাস খেলে যাওয়া ওয়াটসন আর আক্রমের সাথে, বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বারবার ডিপ মার্কিং নিতে বাধ্য করা এই সবই যুবভারতীর দর্শকেরা দেখলেন সবুজ মেরুনের ম্যান অফ দা ম্যাচের খেলার স্টাইলে। এই ধরনের ম্যাচে এমনিতেই কোচেরা অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ মাইন্ডেড হয়ে থাকেন শুরুতে না গোল খাওয়ার জন্যে সেখানে ম্যাচের ২ মিনিটেই ডিকার গোল বেশ তাৎপর্যের, ইস্টবেঙ্গল খেলোয়াড়রা সেই ভুলের মাসুল দেওয়ার আগেই ৩৪ মিনিটে নিজের করা 'মিডাস টাচ' গোলে বিপক্ষ কে ম্যাচে ফিরে আসার আর কোনোই সুযোগ দেননি সবুজ মেরুন ব্রিগেডের সেরা তারকা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটের মধ্যেই বেস্ট মিডিও আল আমনা কে চোটের জন্যে উঠে যেতে হয়, পরিবর্ত নামেন বাজিই আরমান্দ, অনেকেই মনে করছেন এটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।

ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে নেমেছিলেন অনেকদিন পরে ভারতীয় ফুটবলে ফিরে আসা ডুডু, মোহনবাগানের স্ট্রাইকার আক্রম আর মিডিয়া ওয়াটসন। দীর্ঘদিন পরে ফিরে আসা ডুডুর খেলার যেরকম ছবি আমরা দেখলাম তাতে করে দলের এই অভিজ্ঞ প্লেয়ার কে নিয়ে আশাবাদী হতেই পারেন কোচ খালিদ জামিল, ভালো আক্রমণ গড়ার মানসিকতা , মিডিয়া ওয়াটসন আর প্লাজার সাথে বোঝাপড়া , ডজে ডিফেন্ডার দের পরাস্ত করা সব রকম স্টাইল মনে করিয়ে দিচ্ছিলো পুরোনো ডুডুকে। সবুজ মেরুন মিডিয়া ওয়াটসন আর আক্রমণভাগের সেরা অস্ত্র আক্রমকে যেভাবে কোচ শঙ্করলাল ব্যবহার করলেন ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তা সত্যি প্রশংসনীয়, বিশেষ করে আক্রম যেভাবে মিড্ থেকে বাড়ানো লম্বা লম্বা বল গুলো হেডে নামিয়ে রাখছিলেন ডিকার জন্যে আর নিজের অলরাউন্ড স্ট্যাইলে মিডফিল্ড থেকে উইং থেকে স্ট্রাইকিং জোনে আসছিলেন বেশ দর্শনীয়। ক্যাপ্টেন কিংশুক অসাধারণ ডিফেন্স সামলানোয়, প্লাজা কে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন , ম্যাচের ৫৬ মিনিটে ডুডুর জোড়া শট ব্লক করেন গোলমুখ থেকে , কোচ শঙ্করলাল দলের প্লেয়ারদের নিয়ে বেশ উৎসাহী , দলের জন্য এটা একদম সঠিক মুহূর্ত, ফ্রেশ অক্সিজেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কোচ খালিদের প্লাজা নামানো আর আগের ম্যাচে সফল জাস্টিনকে বসানো কতটা স্ট্রাটেজিগত ভুল তা বিচার করার জন্য ফুটবল বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই, অচল প্লাজাকে দেখে মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিলো যেন এই হাসপাতালের বেড থেকে উঠে এসেছেন এতটাই ক্লান্তির ছাপ খেলার স্টাইলে, বড়ো ম্যাচ মানসিকতা নেই, খাপ বল কট্রোল, নিজের আক্রমণভাগের সতীর্থ ডুডুর সাথে কোনো বোঝাপড়া নেই, ব্যালান্স হারিয়ে বারবার ট্যাকলে এ পরে যাওয়া সবমিলিয়ে কোচ খালিদ নিজের পার্সোনাল শিট এও ম্যাচ রেটিং ৪/১০ দিতে পারবেন কিনা সন্দেহ, আল আমনার পরিবর্তে নামা আরমান্দ ভালো খেলেছেন ঠিকই কিন্তু আমনার অভাব দল বাকি ম্যাচে পূরণ করতে পারলো কোথায়, সেভাবে তো বল সাপ্লাই পেলেন না সারা ম্যাচে ডুডু, প্লাজারা। হতাশ কোচ জামিল যদিও নিজেই ব্যর্থতার দায় স্বীকার করছেন কিন্তু প্লেয়ারদের জঘন্যতম খেলার মাসুল ক্লাবের লিগ পজিশন এ যেভাবে পড়েছে তার দায় এড়ানো যাই কি। এবারেই সবথেকে ভালো সুযোগ ছিল ইস্টবেঙ্গলের আই লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ এর দৌড়ে থাকার কিন্তু এই ম্যাচ অনেক হিসেব নিকেশ পাল্টে দিয়েছে, দেখার লাল হলুদ ব্রিগেড বাকি ম্যাচগুলোতে কিভাবে পারফর্ম করে এই হারের থেকে শিক্ষা নিয়ে।

কোন মন্তব্য নেই: