কলকাতা: এবার নেতাজি ও সাধারণতন্ত্র দিবস নিয়ে বিজেপিকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত তৃণমূল। স্বামী বিবেকানন্দের পর রীতিমত সার্কুলার জারি করে গোটা দল ও শাখা সংগঠনগুলিকে নিয়ে বুথস্তর পর্যন্ত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী পালনের নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। স্বামী বিবেকানন্দের পর এবার রাজ্য জুড়ে নেতাজি জন্মজয়ন্তী পালনে নামছে শাসকদল৷
বাংলার এই দুই জনপ্রিয় মনীষীকে হিন্দুত্বের আইকন হিসেবে তুলে ধরতে গেরুয়া শিবির যখন তৎপর তখনই রীতিমত সার্কুলার জারি করে গোটা দল ও শাখা সংগঠনগুলিকে নিয়ে বুথস্তর পর্যন্ত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মজয়ন্তী পালনের নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল। দলের দখলে থাকা সমস্ত পুরসভা, জেলা পরিষদের সর্বস্তরে প্রশাসনের উদ্যোগে আগামীকাল, মঙ্গলবার নেতাজির জন্মবার্ষিকী পালনের আয়োজন করা হয়েছে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে বিবেকানন্দের পর এবার নেতাজিকে নিয়ে সঙ্ঘ পরিবারকে টেক্কা দিতে প্রস্তুত তৃণমূল।
প্রভাত ফেরি থেকে শুরু করে রক্তদান, বস্ত্রদানের মতো সামাজিক কর্মসূচি সহ সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হতে পারে। অর্থাৎ এরাজ্যে নেতাজি জয়ন্তীর আসরে নিজেদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল। কলকাতা পুরসভা প্রতি ওয়ার্ডকে এই অনুষ্ঠানের আয়োজনে আলাদা করে অর্থ বরাদ্দ করেছে। একইভাবে অন্যান্য পুরসভা, জেলা পরিষদকেও নেতাজিজয়ন্তীর পরিকল্পনা নিতে বলেছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ। রাজ্য সরকারের মুল অনুষ্ঠানটি এবার হবে ময়দানে নেতাজির মূর্তির পাদদেশে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত থাকবেন। রাজ্যের মন্ত্রিসভা সদস্য থেকে তৃণমূলের স্তরের কর্মী পর্যন্ত- সবাইকে এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে-এমনই নির্দেশ দলীয় নেতৃত্বের।
সম্প্রতি, স্বামীজির জন্মদিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি রাজ্য রাজনীতি উত্তাল হয়েছিল | বাইক অভিযান নিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিল বিজেপি। তৃণমূলের স্বামীজি বা নেতাজি স্মরণ নতুন কিছু নয়। নিজস্ব পরিসরে বিজেপিও ওই দুই ব্যক্তির জন্মদিন নীরবে পালন করে। ঘটনাচক্রে রাজ্যে শাসকের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে গেরুয়া শিবিরের উত্থানে পুজো-পার্বণ থেকে জনপ্রিয় মনীষীদের স্মরণের একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন