কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশন চন্দননগরের সাতটি ভবনে ঐতিহ্যের ফলক লাগাতে চায়। এ কারণে কমিশনের তরফে ভারতে ফরাসি দূত আলেকজান্ডার জিগলারের কাছে পছন্দের দিনক্ষণ জানতে চেয়েছে।
কলকাতা থেকে মেরে কেটে সড়ক পথে দূরত্ব বড় জোর ৪০ কিলোমিটার। গঙ্গার উপর দিয়ে জলযানে গেলে এই দূরত্ব আরও কম। এককালে ফরাসীরা এই গঙ্গা দিয়েই পৌঁছেছিলো চন্দননগরের ঘাটে। সালটা ছিল ১৬৭৩ যখন এই চন্দননগরে ফরাসীরা উপনিবেশ স্থাপন করেছিল। বলতে গেলে আধুনিক চন্দননগরের গোড়াপত্তন হয়েছিল ফরাসীদের হাত ধরেই। তাঁদের তৈরি করা সব বড় নির্মাণ এবং তাদের স্থাপত্য-কলা আজও ঐতিহাসিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
কমিশনের চেয়ারম্যান শিল্পী শুভাপ্রসন্ন জানান, ”আমরা এই শুভ উদ্যোগে চন্দননগরের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে ফরাসি প্রতিনিধিদের পেতে চাই।” অতি সম্প্রতি জিগলার নিউ টাউনে শুভাপ্রসন্নর ‘আর্টস একর’ দেখতে যান। সেখানেই চন্দননগরের ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে কথা হয় ওঁদের।
শুধু নির্মাণ স্থাপত্য নয়, চন্দননগরের নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে শহরের নাগরিক পরিষেবা সেই আমলেই এতটাই অত্যাধুনিক ছিল যে বাংলার এই শহরের নাম ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু, সেই চন্দননগরের গর্বের ঐতিহ্য আজ প্রায় ধ্বংসের পথে। ফরাসীদের তৈরি কিছু বাড়ির মেরামতি সম্ভব হলেও এখনও বেহাল দশায় প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে রেজিস্ট্রি বিল্ডিং। এমনকী, নিকাশি ব্যবস্থা ও নাগরিক পরিষেবা মান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অতি-অত্যাধুনিক হয়ে উঠতে পারেনি।
চন্দননগরে ফরাসি আমলে তৈরি ভবনগুলিকে পর্যায়ক্রমে সংরক্ষিত করা নিয়ে গত এপ্রিল মাসে ফরাসি কনসাল জেনারেল ডামিয়ান সৈয়দ আলোচনা করেন শুভাপ্রসন্নর সঙ্গে। এ কারণে ‘আর্টস একরে’ ডামিয়েন ৯৯টি ভবনের একটি তালিকাও দেন হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যানকে।
প্রাথমিকভাবে চন্দননগরের যে সাতটি ভবন সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেগুলির মধ্যে আছে রেজিষ্ট্রি বিল্ডিং, সেক্রেড হার্ট চার্চ, কানাইলাল বিদ্যামন্দির, ওই স্কুলের ফরাসি শাখা, চন্দননগর কলেজ,
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন