প্রজাতন্ত্র দিবসে কেন বিদেশিদের ‘গেস্ট অফ অনার’ দেওয়া হয়? - Aaj Bikel
প্রজাতন্ত্র দিবসে কেন বিদেশিদের ‘গেস্ট অফ অনার’ দেওয়া হয়?

প্রজাতন্ত্র দিবসে কেন বিদেশিদের ‘গেস্ট অফ অনার’ দেওয়া হয়?

Share This

দিল্লির রাজপথে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুজকাওয়াজ৷ দেশের আর্মড ফোর্স— স্থল, জল ও বায়ু সেন তাদের ‘ক্ষমতা’ প্রদর্শন করে দেশের রাষ্ট্রপতির সামনে। রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে থাকেন দেশের প্রধানমন্ত্রী-সহ প্রায় সকল মন্ত্রীরাও। সাধারণ মানুষের ভিড় থাকে দেখার মত। এবং অবশ্যই থাকেন ‘গেস্ট অফ অনার’। ভিন দেশের কোনও একজন রাজনৈতিক নেতা বা মন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ভারতের এই বিশেষ দিনে অতিথি হিসেবে৷

১৯৪৯ সালের ২৬ নভেম্বর— ‘প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে স্বীকৃত হওয়ার পরে, ‘ভারতীয় সংবিধান’-এর কার্যকলাপ শুরু হলেও, তা কার্যকরী হয় ১৯৫০-এর ২৬ জানুয়ারি। এবং এই তারিখটি উল্লেখিত হয় ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে৷

১৯৫০ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত, প্রায় প্রতি বছরই বিশ্বের কোনও না কোনও নেতা এসেছেন ভারতের মাটিতে। ১৯৫০ সালে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুকর্ণ ছিলেন এই তালিকার প্রথম অতিথি। বন্ধু-শত্রু দেশ নির্বিশেষে, প্রায় সকলেই কখনও না কখনও নিমন্ত্রিত হয়েছেন। আর এই নিমন্ত্রণের কারণ কেবলমাত্র আতিথেয়তাই নয়, সে দেশের প্রতি বন্ধুত্বের ইঙ্গিতও বটে।

২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরে, ২০১৬ সালে প্রথমবার আমন্ত্রিত দেশ, ফ্রান্সের সেনা ‘কনটিনজেন্ট’ নেতৃত্ব দেয় সে বছরের রিপাবলিক ডে প্যারেড-এর। গত বছরে বিশেষ অতিথি হয়ে ভারতে আসেন আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স, শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ অল নাহিয়ান৷ ফল, এবারও তার ব্যথিক্রম ঘটছে না৷ 

আসন্ন প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথি হতে চলেছেন আসিয়ানভুক্ত দেশগুলির রাষ্ট্রনায়করা৷ অ্যাক্ট ইস্ট নীতিতে পূর্বের দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার নীতি নিয়েছে মোদী সরকার। সূত্রের খবর, এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতের আমন্ত্রণ স্বীকার করেছেন ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী। ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী জুয়ান ফুক ও সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর লি সিয়েন লুং থাকবেন কুচকাওয়াজের অনুষ্ঠানে। মালয়শিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নজীব রজকের ভারত আসাও মোটামুটি নিশ্চিত।

মায়নামার, কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলির রাষ্ট্রনায়করাও থাকতে পারেন। সূত্রের খবর, আসিয়ানভুক্ত দশটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে দু'বার প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে একাধিক অতিথি ছিলেন। ১৯৬৮ সালে তত্কালীন যুগোশ্লাভিয়া ও সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রিমিয়ার উপস্থিত ছিলেন। ১৯৭৪ সালে এই দু'জনের সঙ্গে ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীও৷  এবারও শাহির কনটিনজেন্টই শুরু হবে এ বছরের প্রজাতন্ত্রের প্যারেড৷ কারণ, এটাই দেশের গৌরব৷

কোন মন্তব্য নেই: